ইউএসডিএর প্রতিবেদন

এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৫৬.১৫%

এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য আমদানি ৫৬ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

২০২৪ সালে যেখানে দেশটি থেকে ৭৭৪ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলারের আমদানি হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কৃষিপণ্যের আমদানি বেড়েছে ৪৩৫ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের বা প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকার (প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ধরে)। এটি বিগত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিজাত পণ্য আমদানিতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৮ সালে দেশটি থেকে সর্বোচ্চ ১ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলারের এবং ২০২০ সালে ১ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউএসডিএর হিসাবে, বিগত এক দশকে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিজাত পণ্য আমদানি গড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ হারে বাড়ছে। আর শীর্ষ আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সয়াবিন, তুলা, গম, চাল, ভুট্টা, সয়াবিন খৈল (সয়াবিন মিল), উদ্ভিজ্জ তেল প্রভৃতি। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ৪৯০ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। ১৪৬ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালে সেটি ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। আর ২০২৪ সালে এসব পণ্যের আমদানি ব্যয় ছিল ৭৭৪ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ সালে ৭৫৩ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলারের, ২০২২ সালে ছিল ৯২৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলারের এবং ২০২১ সালে ৯২২ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলারের কৃষিজাত পণ্য আমদানি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি ব্যয় সয়াবিনে, যার প্রবৃদ্ধির হার ৭২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ সময়ে আমদানি হয়েছে ৬০৩ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলারের, এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে যেটি ছিল ৩৪৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার। আর গত বছর ওজনের হিসাবে আমদানি হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন টন সয়াবিন।

এদিকে এক বছরের ব্যবধানে গম আমদানি বেড়েছে ২৪১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে যা ছিল ৩৩ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলারের, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে ১১৫ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ লাখ ৬ হাজার ৭৬০ টন আমদানি করা হয়। এছাড়া বিগত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি বেড়েছে ৫৩২ শতাংশ।

এছাড়া এক বছরের ব্যবধানে সয়াবিন মিল (সয়াবিনের খৈল, যেটি পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়) আমদানি বেড়েছে ৪০৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছর আমদানি হয়েছে ১০৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের। আগের বছর যেটি ছিল মাত্র ২০ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারের।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ৩ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারের চাল আমদানি করা হয়। তবে গত বছর সেটি প্রায় ৯৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৪৭ হাজার ৮৩৪ টন চাল আমদানি করা হয়।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ভুট্টা আমদানি করা হয়নি। তবে গত বছর ১ লাখ ১১ হাজার ১৬৭ টন আমদানি করা হয়েছে। এজন্য আমদানি ব্যয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন বা ৩ দশমিক ৫৮ কোটি ডলার। সয়াবিন ব্যতীত উদ্ভিজ্জ তেল আমদানি হয়েছে ৬ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলারের। যেটি ২০২৪ সালে ছিল ৩ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারের।

কৃষি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। যেখানে দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা এবং মার্কিন কৃষিপণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজার আরো উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বছরে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের মতো কৃষিজাত পণ্য ও কৃষিপণ্যের কাঁচামাল আমদানির কথা রয়েছে। যার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তির ফলে দেশটি থেকে কৃষিজাত পণ্যের আমদানি বেড়েছে। তবে এখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য আমদানির শর্ত রয়েছে। আর দামও তারা ঠিক করে দিচ্ছে। ফলে দরপত্রের মাধ্যমে কম দামে পাওয়া যাবে এমন উৎস থেকেও পণ্য কিনতে পারবে না বাংলাদেশ। এতে দেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা একটি অসম চুক্তির ফল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ক্রেতা হিসেবে দামদর করে কিনতে পারব না, আবার রাশিয়ার মতো দেশ থেকে কিনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হবে এমনও বলা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য অসম্মানের বিষয়। এসব শর্তের বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হওয়া দরকার। প্রয়োজনে বাংলাদেশ এ চুক্তি বাতিলও করতে পারে।’ এ চুক্তি দেশের কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক কিছু দিতে পারবে না, বরং ক্ষতি করবে বলে মন্তব্য করেছেন এ কৃষি অর্থনীতিবিদ।

আরও